বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলো মাদারীপুরের প্রায় আড়াই হাজার সুবিধা বঞ্চিত মানুষ। যে মানুষগুলো দিন আনে দিন খেয়ে দিন কাটায় সেই মানুষগুলো অর্থোপেডিক, বক্ষ, গাইনিসহ নানা জটিল রোগের ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেলো। সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এ চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমটি আয়োজন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান ট্রাস্ট। আজ মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর জেলার শিবচর প্রভাতী কিন্ডারগার্টেনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নুর-ই-আলম চৌধুরী। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, সংগঠনের জেলা সভাপতি ডা. আ. বারী, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম মিয়া প্রমুখ।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ॥ ৬ ঘণ্টা ট্রাক পারাপার বন্ধ, ৪ আনসার সদস্য প্রত্যাহার
চাঁদার মাধ্যমে সিরিয়াল ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে আনসারদের হামলায় এক ট্রাক চালক আহত হওয়ার ঘটনায় আজ দু’ঘণ্টা শিবচরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে ট্রাক শ্রমিকরা।
এলাকাবাসী ও ট্রাক শ্রমিকরা জানায়, শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটের বাঁশকল এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকালে বড় অংকের চাঁদার মাধ্যমে পেছনের ৩টি ট্রাক সিরিয়াল ভেঙ্গে ফেরিতে উঠায় আনসার ও বিআইডব্লিউটিসির স্টাফরা। এসময় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত আনসার, স্থানীয় দোকানীরা ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ট্রাক ড্রাইভার এনায়েত হোসেন (৪৫) গুরুতর আহত হয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল ৬ টায় ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচাল বন্ধ করে দেয়। এসময় শিবচর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ এসে দায়িত্বরত ৪ আনসার সদস্য মো. সোহেল, আবুল কালাম, মো. জুলহাস, মনির হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে থানায় নিয়ে আসে ও আহত শ্রমিক এনায়েত হোসেন (৪৫) শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত ড্রাইভার এনায়েত হোসেন বলেন, আনসার ও বিআইডব্লিউটিসির স্টাফদের চাঁদাবাজির মাধ্যমে সিরিয়াল ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় ও চাঁদা না দেয়ায় ওরা আমাকে মারধর করে ৩ হাজার সাতশ টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে ৪ আনসার ও আহত ড্রাইভারকে থানায় আনা হয়েছিল। দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে।
Read More ... »
এলাকাবাসী ও ট্রাক শ্রমিকরা জানায়, শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটের বাঁশকল এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকালে বড় অংকের চাঁদার মাধ্যমে পেছনের ৩টি ট্রাক সিরিয়াল ভেঙ্গে ফেরিতে উঠায় আনসার ও বিআইডব্লিউটিসির স্টাফরা। এসময় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত আনসার, স্থানীয় দোকানীরা ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ট্রাক ড্রাইভার এনায়েত হোসেন (৪৫) গুরুতর আহত হয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল ৬ টায় ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচাল বন্ধ করে দেয়। এসময় শিবচর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ এসে দায়িত্বরত ৪ আনসার সদস্য মো. সোহেল, আবুল কালাম, মো. জুলহাস, মনির হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে থানায় নিয়ে আসে ও আহত শ্রমিক এনায়েত হোসেন (৪৫) শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত ড্রাইভার এনায়েত হোসেন বলেন, আনসার ও বিআইডব্লিউটিসির স্টাফদের চাঁদাবাজির মাধ্যমে সিরিয়াল ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় ও চাঁদা না দেয়ায় ওরা আমাকে মারধর করে ৩ হাজার সাতশ টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে ৪ আনসার ও আহত ড্রাইভারকে থানায় আনা হয়েছিল। দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে।
পদ্মায় দুই স্পিডবোটের সংঘর্ষ, আহত ১০
আজ দুপুরে কাওরাকান্দি ঘাটের কাছে কাঁঠালবাড়ীসংলগ্ন পদ্মায় মুখোমুখি সংঘর্ষে দুটি স্পিডবোট-ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে যাত্রীরা দাবি করলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কাওরাকান্দি স্পিডবোট ঘাট সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়ী এলাকায় মাওয়া থেকে ছেড়ে আসা পিন্টু মিয়ার স্পিডবোটের সঙ্গে কাওরাকান্দি থেকে ছেড়ে যাওয়া মো. মিল্টনের স্পিডবোটের সংর্ঘষ হয়। এতে স্পিডবোট দুটি ডুবে যায়। এ সময় যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। তবে সংঘর্ষে নূরুল ইসলাম, রত্না আক্তার, ইলিয়াছ, সেন্টু, লিটনসহ অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়। অজ্ঞাতনামা আরো চার যাত্রীকে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা নেওয়া হয়েছে বলে যাত্রী ও ঘাট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
শিবচরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৩
শিবচরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১জন নিহত ও ৩জন আহত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাখরকান্দি বেইলিব্রিজ নামক স্থানে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী মধুমতি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো চ-১১-২৩৫১) চাকায় পিষ্ট হয়ে শাহ আলম খলিফা (১৫) গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। নিহত শাহ আলম বাখরেরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র এবং খানকান্দি এলাকার ইউনুছ খলিফার ছেলে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করতে পারেনি।
এদিকে আজ দুপুরে পাঁচ্চর-সদরপুর সড়কের রাজারচর আজগর হাওলাদার কান্দি এলাকায় একটি নসিমন ও মটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনজন আহত হয়। তাদেরকে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মটরসাইকেল আরোহী মাহাবুব ও কাওসারের অবস্থা আশংকাজনক।
৭ চাঁদাবাজের জামিন মিলেনি : নিজেরাই ধর্মঘট তুলে নিলেন কাওড়াকান্দির মাইক্রোবাস মালিক শ্রমিকরা
শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট ও পৌর টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ৭ জনকে আদালত মুক্তি না দিলেও আজ সকাল থেকে নিজেরাই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে মাইক্রোবাস মালিক ও শ্রমিকরা। মূলত বিকল্প যান মাইক্রোবাস ধর্মঘটে সারা না পাওয়ায় আল্টিমেটাম থেকে মাইক্রোবাস মালিক শ্রমিকরা সরে আসে।
কাওড়াকান্দি মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি খোকা মাদবর বলেন, গ্রেফতারকৃত লাইনম্যানদের আদালত জামিন দেয়নি। আদালত পুলিশ প্রতিবেদন চেয়েছে। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ও প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে আজ সকাল থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে মাইক্রোবাস চলাচল শুরু হয়েছে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, কাওড়াকান্দি থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিকল্প যান মাইক্রোবাস। এগুলো রেন্ট-এ-কার সার্ভিসে চালানোর কথা থাকলেও যাত্রী সুবিধার্থে ও কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে রুটটি ব্যবহার করতে দেয়া হয় মাইক্রোবাসকে। এছাড়া যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থাকায় মাইক্রোবাস ধর্মঘটে যাত্রীদের কোন সমস্যা হয়নি। তাই তারা নিজেরাই বন্ধ করে নিজেরাই আবার চালু করেছে।
শিবচর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসেবার বেহাল দশা : ফিউজটি মেরামতেই সময় লাগলো ১০ ঘণ্টা
রাত ১১টা ৩০ মিনিট। কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের পর সারা পৌর এলাকাতেই বিদ্যুৎ এলো। কিন্তু শিবচর পৌর এলাকার ডিসি রোড, চরগুয়াতলা, পশু হাসপাতাল এলাকা ও হাতিরবাগান মাঠ সংলগ্ন এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন। বিদ্যুৎ নেই। এসএসসি পরীক্ষা চলছে তাই উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের টেলিফোনে ফোন করেও অপর প্রান্ত থেকে ফোনটি রিসিভ হলো না। অনেকেই পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে ফোন করলো, আশ্বাসও মিললো। কিন্তু সুরাহা হলো না। অবশেষে ১০ ঘণ্টা পর আজ সকাল সাড়ে ৯ টায় মাত্র ৩ মিনিটেই পলাশী সিনেমা হলের পিছনের বৈদ্যুতিক খুঁটির 'ফিউজ' পুনঃসংযোগ করে এইসকল এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত করা হয়। আর এই দশ ঘণ্টা শতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষকে থাকতে হলো বিদ্যুৎবিহীন। এই হলো শিবচর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসেবার হাল।
এসএসসি পরীক্ষার্থী চম্পা আক্তার বলেন, গত রাত সাড়ে ১১ টায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও পরীক্ষা দেয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্তও আসেনি। অথচ আশে পাশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল। এ এলাকার শতাধিক পরীক্ষর্থী চরম দুর্ভোগ পোহালেও পল্লী বিদ্যুৎ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
ডিসি রোডের বাসিন্দা মাহাতাব সরদারসহ অনেকে বলেন, রাতে অনেক বার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি। ডিজিএম লাইনম্যান পাঠানোর কথা বলেও পাঠায়নি। অথচ আজ সকালে মাত্র ৩ মিনিটেই ফিউজটি মেরামত করলো। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বহীনতায় আমাদের ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হলো।
ফিউজটি সংস্কার করতে আসা লাইনম্যান মো. বাকের বলেন, ফিউজটি সংস্কার করতে মিনিট তিনেক সময় লেগেছে। রাতে লাইনের সমস্যা বের করা কষ্টসাধ্য এইজন্য সকালে মেরামত করা হলো।
এ ব্যাপারে শিবচর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মামুনুর রশীদ লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাতে কেন ফোন রিসিভ করেনি বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। রাত ৯টা পর্যন্ত দুজন লাইনম্যান থাকে। এরপর থাকে একজন। তাই ফিউজটি মেরামত করা হয়নি।
৭ চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেফতারের ঘটনায় কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী মাইক্রোবাস ধর্মঘট
শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট ও পৌর টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৭ জনকে চাঁদাবাজির টাকাসহ গ্রেফতারের ঘটনায় আজ সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী মাইক্রোবাস ধর্মঘট শুরু করেছে মালিক শ্রমিকরা। ফলে বরিশাল, কাওড়াকান্দি, টেকেরহাট ও ভাটিয়াপাড়া রুটে চলাচলরত প্রায় দেড় শতাধিক মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ থাকায় এ রুটের যাত্রীরা কিছুটা দুর্ভোগ পোহান।
সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর র্যাব ক্যাম্পের এএসপি শহীদুল্লাহের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল যাত্রী ও শ্রমিক বেশে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে সাইদুল ইসলামকে ৪ হাজার ৩০ টাকা, রুবেল ২ হাজার ৭শ ৬০ টাকা, আলী আকবর ২ হাজার ৬ শত ২৫ টাকা, মো. শহীদুল ২০ হাজার ৩ শ ৮৫ টাকা, বুলু মিয়া ৩ হাজার ৬শ ৪৫ টাকা ও পৌর এলাকার টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে আক্তার হোসেন সান্টুকে ১ হাজার ২শ ৫৫ টাকা ও সাগরকে ৭শ ৪৮ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। রাতেই গ্রেফতারকৃতদের শিবচর থানায় হস্তান্তরের পর বুধবার সকালে মাদারীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু গ্রেফতারকৃতদের লাইনম্যান হিসেবে দাবী করে আজ সকাল থেকে এরুটে মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে কাওড়াকান্দি মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি খোকা মাদবর জানান, গ্রেফতারকৃতরা কেউই চাঁদাবাজ নয় তারা লাইনম্যান। তাদের কাছ থেকে যে টাকা জব্দ করা হয়েছে তা বাহাদুরপুর ওরসের জন্য। এছাড়া আমরা বরিশালের মতোই মালিক সমিতির সিদ্ধান্তক্রমে শ্রমিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ছোট মাইক্রোবাস থেকে ৫০ ও বড় মাইক্রোবাস থেকে ১শ টাকা নেই। এটা কোন চাঁদাবাজি নয়, লাইনম্যানদের বেতন-ভাতা ও দুর্ঘটনার চিকিৎসায় ব্যয় হয়। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি না দেয়া জন্য পর্যন্ত মাইক্রোবাস ধর্মঘট চলবে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, গ্রেফতারের ঘটনায় বৈধতা না থাকা মাইক্রোবাসগুলো সকাল থেকে চলাচল বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।
কাওড়াকান্দি ঘাটে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় সাত পরিবহন চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজীর টাকা এবং মোবাইল সেটসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮
আজ সন্ধ্যায় চাঁদাবাজিকালে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাট ও পৌর এলাকার টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজির ৩৫ হাজার ৫শ ৪৭ টাকা ও ৫টি মোবাইলসহ ৭ চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল সিনিয়র এএসপি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর নেতৃত্বে আজ শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে আনুমানিক বিকেল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে র্যাব সদস্যরা বিভিন্ন পরিবহন যাত্রী বেশে উক্ত কাওড়াকান্দি ঘাটের বিভিন্ন স্থান হতে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে সৈয়দ ফয়জুর রহমান (বুলু) (৬০), পিতা- মৃত সৈয়দ মুর্তজা, গ্রাম- নওয়াপাড়া, থানা- ভাঙ্গা, জেলা- ফরিদপুরকে চাঁদাবাজির ৩ হাজার ৭শ’ ৪৫ টাকা ও একটি নোকিয়া মোবাইলসহ; আলী আকবর শেখ (৫৫), পিতা- মৃত রনয় শেখ, গ্রাম- বজলু বেপারীর কান্দি, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁজাবাজির ২ হাজার ৬শ ২৫ টাকা এবং একটি মোবাইলসহ; মো. রুবেল (২০), পিতা- হাবিব বেপারী, গ্রাম- উত্তর বাখরের কান্দি, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁদাবাজীর ২ হাজার ৭শ ৬০ টাকাসহ; সাঈদুল ইসলাম (২৭), পিতা- মো. তোতা মিয়া, গ্রাম- বাহেরচর, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁদাবাজির ৪ হাজার ৩০ টাকা এবং একটি নোকিয়া মোবাইলসহ; আখতার হোসেন সান্টু (৪৩), পিতা- আবুল কাশেম বেপারী, গ্রাম- কেরানীবাট, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁদাবাজীর ১ হাজার ২শ ৫৫ টাকা এবং একটি মোটোরোলা মোবাইল সেটসহ; সাগর বেপারী (৩৫), পিতা- মৃত আজিজুল বেপারী, গ্রাম- কেরানীবাট, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁদাবাজীর ৭শ ৪৮ টাকাসহ এবং মো. শহিদ মিয়া (২৫), পিতা- মৃত মো. সিদ্দিক মাদবর, গ্রাম- বাখরেরকান্দি, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুরকে চাঁদাবাজীর ২০ হাজার ৩শ ৮৪ টাকা এবং একটি মোবাইলসহ গ্রেফতার করে।
র্যাবের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত পরিবহন চাঁদাবাজ আসামিরা জানায় যে, তারা কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে প্রত্যেক ট্রাক ও বাস প্রতি ৫০-১০০ টাকা করে এবং মাইক্রোবাস প্রতি ১০-৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। এছাড়া আরো জানায় যে, তারা অন্যান্য সকল যানবাহন থেকে, এমনকি যাত্রীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করে থাকে। এছাড়া যানজটের সময় গাড়ি প্রতি চাঁদার পরিমাণ আরো বেশি বেড়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে থানায় হস্তান্তরের আইনী বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
রহস্যজনক বিষক্রিয়া : এক মায়ের মৃত্যু, দুই শিশু মৃত্যুশয্যায়
আজ সকালে রহস্যজনক বিষক্রিয়ায় শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন জাজিরার পশ্চিম নাওডোবা গ্রামে রহস্যজনক বিষক্রিয়ায় পেয়ারি বেগম (২৫) নামের এক মা মারা গেছে ও তার দুই শিশু এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশকে কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।
পার্শ্ববর্তী উজালা বেগম বলেন, সকালে পেয়ারি বেগম কন্যা রেখা (৩), পুত্র শাওন (২) কে নিয়ে একত্রে ভাত খায়। কিছুক্ষণ পর শিশুপুত্র শাওন বমি করতে শুরু করলে মা পেয়ারি ছেলেকে নিয়ে নাওডুবা বাজারের চিকিৎসালয়ে রওনা করে। পথিমধ্যে পিয়ারি বেগম ও শিশুকন্যা রেখা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তাদের উদ্ধার করে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিয়ারি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোতালেব মিয়া বলেন, মাকে হাসপাতালে পৌছানোর আগেই সে মারা যায়। শিশু দুটির অবস্থাও আশংকাজনক থাকায় তাদের ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। খাবারের সাথে বিষাক্ত কিছু থাকায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
পার্শ্ববর্তী সেকান্দার মিয়া ও শাহ আলম মাদবর বলেন, ওর (নিহত পেয়ারি) স্বামী রফিক এর আগে কয়েকবার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেয়েছিল। এ নিয়ে ওর সংসারে কলহ চলছিল। তবে কীভাবে এতবড় ঘটনা ঘটলো বলতে পারছি না।
পৃথক দুই অগ্নিকাণ্ডে ৯টি ঘর পুড়ে ছাই
সোমবার রাতে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে ও পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে পৃথক দু’টি অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বসতঘর ও ৩টি রান্নাঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়েছে। এ সময় ঘরে রাখা নগদ অর্থ, ২শ’ মণ পাট ও ১শ’ মণ রবিশস্য সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সোমবার সন্ধ্যারাতে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মান্নান খাঁর রান্নাঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মোখলেস খাঁর ২টি ঘর, সোনা খাঁর ১টি ঘর, আকলিমার ১টি ঘর, হাকিম খাঁর ২টি ঘর ও মান্নান খাঁর ২টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়। এলাকাবাসী প্রায় চার ঘণ্টা পড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়তির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা।
এদিকে একই রাতে উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের শাহিন মিয়ার ১টি বসতঘর আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়। ঘরে রাখা বিভিন্ন মালামালসহ ১টি ছাগল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।
কাওড়াকান্দি-মাওয়া রুটে যাত্রীপ্রতি ৩ টাকা লঞ্চ ভাড়া কমলেও সন্ধ্যার পরেও স্পীডবোড চলাচল বন্ধ হয়নি ॥ স্পিডবোট ভাড়া ১০০ পরিবর্তে ১২০ টাকা
দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাওড়াকান্দি-মাওয়া নৌ রুটের লঞ্চ ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৩ টাকা কমলেও সরকারের নিয়ম করে দেওয়া সন্ধ্যার পরেও বন্ধ হয়নি স্পিডবোড চলাচল। আজ সকাল থেকে লঞ্চ ভাড়া যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকার স্থলে ১২ টাকা করে আদায় শুরু হয়েছে। এদিকে রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধে পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৩ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছিল লঞ্চ মালিক সমিতি। তবে ২৩ ডিসেম্বর থেকে স্পিডবোট মালিক সমিতি ভাড়া বাড়িয়ে জনপ্রতি ১শত ২০ টাকা করে। তা এখনো বহাল রয়েছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকে মাদারীপুর, শরিয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন নৌযান মালিকদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ রুটের লঞ্চ ভাড়া ১৫ টাকার স্থলে ১২ টাকা আদায় শুরু হচ্ছে এবং কাওড়াকান্দি-মাওয়া রুটে সূর্যাস্তের আধা ঘণ্টা আগে থেকে সকল স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, বিকাল ৫ টার পর থেকে ঘাট এলাকায় শক্তভাবে পুলিশ থাকবে। কোনো অবস্থাতেই বিকালের পর স্পিডবোট চলাচল করতে দেয়া হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওড়াকান্দি-মাওয়া ঘাট লঞ্চ মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আগের মতোই কাওড়াকান্দি-মাওয়া ঘাটে স্পিডবোট নিয়মিত চলাচল করছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারের তৈরি নিয়ম নীতি এখনো মেনে চলছে না অধিকাংশ স্পিডবোড মালিকরা।
কাচিকাটা গ্রাম থেকে ৯ জুয়াড়ি গ্রেফতার
গতকাল রবিবার রাতে শিবচর উপজেলার কাচিকাটা থেকে ৯ জন জুয়াড়িকে নগদ অর্থসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে দুই জুয়াড়ি এসএসসি পরীক্ষার ছাত্র হওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশ উপজেলার কাঁচিকাটা গ্রামের একটি পানের বরজের ভেতর থেকে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল (৪৫), মাহবুব মাদবর (৩৫), তারামিয়া হাওলাদার (৩৮), আলম খান (৩৫), রাজন খান (৪০), মাহমুদ ফরাজী (২২) ও মহসিন বেপারিকে (২৪) জুয়া খেলা অবস্থায় হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ২১ হাজার ২৮০ টাকা ও কয়েক বান্ডিল তাস উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতদের আজ সোমবার সকালে তাদের মাদারীপুর কোর্টে চালান করা হয়েছে।
কাওড়াকান্দি-মাওয়া রুটে তীব্র নাব্যতা সংকট, ফেরি স্বল্পতায় দুই পাড়ে সহস্রাধিক যান পারাপারের অপেক্ষায়
পদ্মা নদীতে তীব্র নাব্যতা সংকট ও ফেরি স্বল্পতায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। উভয় ঘাটে প্রায় সহস্রাধিক যান পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। নৌ-রুটের চ্যানেলগুলোতে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে ফেরিগুলো নদীর তলদেশ ঘেষে চলায় ফেরিগুলোর প্রপেলার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে।
বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি সূত্র ও ফেরি চালকরা জানায়, পদ্মায় অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে গত কয়েকদিন ধরে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে লৌহজং টার্নিং পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার নদীপথে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে ফেরিগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কম সংখ্যক যানবাহন নিয়ে অথবা হালকা যান নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এছাড়া ৩ দিন আগে এ রুটের রো রো ফেরি ‘ভাষা শহীদ বরকত’ দৌলতদিয়া ঘাটে স্থানান্তরিত করা হয় ও ফাট ফেরি ‘রানীক্ষেত’ বিকল হয়ে মাওয়া ডক ইয়ার্ডে মেরামতাধীন আছে। ফলে ৫টি ফাট ফেরি, ২টি কে-টাইপ ফেরি ও ১টি রো রো ফেরি দিয়ে পারাপার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে কাওড়াকান্দি ১নং ঘাটটি ২ দিন আগে বিকল হয়ে পড়ায় ও ৩নং ঘাট দিয়ে ভারি যানবাহন উঠানামা করতে না পারায় অচলাবস্থা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মূলত কাওড়াকান্দি ২নং ঘাটটি এখন সচল রয়েছে। ফলে কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে ফেরিগুলো আনলোড হতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
রো রো ফেরি শাহ মখদুমের মাস্টার ইনচার্জ এমএম ইদ্রিস হোসেন সিরাজী বলেন, কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়ার লৌহজং পয়েন্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণই নাব্য সংকট থাকায় মাটির সঙ্গে ঘষা লেগে ফেরির তলদেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে ফেরি চলাচল করায় পারাপারে সময়ও ৩গুণ বেশি লাগছে।
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশিকুজ্জামান জানান, তীব্র নাব্য সংকট, কাওড়াকান্দির মাত্র ১টি ঘাট সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা ও ফেরি স্বল্পতায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অন্য ঘাটগুলো দিন দিন ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় যান পারাপারে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাট ইজারাদার আবুল আলম হাওলাদার জানান, কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে রো রো ফেরি ভাষা শহীদ বরকত স্থানান্তরিত, অন্যান্য ফেরি বিভিন্ন সমস্যা এবং নদীর নাব্যতা সংকট হওয়ায় কম গাড়ি নিয়ে ফেরিগুলো চলাচল করায় দুই পাড়ে যানজটের তীব্রতা বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, আজ রবিবার ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামালবাহী ট্রাক ও অন্যান্য ছোটবড় গাড়িসহ প্রায় ৫ শতাধিক গাড়ি ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
মজুরি চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন আহত
শ্রমিকের মজুরি চাওয়াকে কেন্দ্র শিবচরের কাদিরপুরে সংঘর্ষে এক নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও হাসপাতালে ভর্তি আহতরা জানায়, গতকাল শনিবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি নুর আলম বকেয়া টাকা চাইতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের সিকিম মাদবরকান্দির এসকান বেপারির বাড়িতে যায়। বকেয়া টাকা চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এসকান বেপারি (৩৫), তার স্ত্রী শাহীনুর (৩০), সেলিম বেপারি (৩০) আহত হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে আনলে প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালেই নুর আলম (৩৩) গুরুতর আহত হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিবচর থানায় মামলা হয়েছে।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ ও লক্ষাধিক টাকার জাল পুড়িয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত
আজ মঙ্গলবার শিবচরের কাঁঠালবাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ ও লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল আটক করে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে।
শিবচর উপজেলা মৎস অফিস সূত্র জানায়, আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রউফ তালুকদারের নেতৃত্বে উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি আড়াআড়ি গাড়াবাঁধ সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়। অবৈধ বাঁধটির মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া জাটকা ধরার কোনা বেড় জাল ১শ মিটার, ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ২শ মিটার টানা বেড় জাল আটক করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা বলে জানা যায়। পরে আটককৃত জাল নদীর তীরে এনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মনিরুল মামুন, সহকারী উপজেলা মৎস অফিসার মো. জহিরুল হক প্রমূখ।
উপজেলা মৎস অফিসার মনিরুল মামুন বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে ধরা এবং নদী জোড়া বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা কোন কারণেই মেনে নেওয়া হবে না।
Subscribe to:
Posts (Atom)


