(১৮ জুন, ২০১০) :: গত এক মাসে ৩ দফা পানি বৃদ্ধিতে ধান,বাদামের পর পাট হারানোয় শিবচরের পদ্মাবেষ্টিত জনবিচ্ছিন্ন হাজার হাজার কৃষকের মাঝে হাহাকার নেমে এসেছে। গত ৪/৫ দিনে পদ্মা ও সংযুক্ত নদ-নদীতে তৃতীয় দফায় পানি বেড়ে শেষ ভরসা হাজার হাজার বিঘার পাট নষ্ট হওয়ায় হতভাগ্য কৃষক ও কৃষক বধুদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। চরের কৃষিখাত সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হওয়ায় শংকিত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারাও। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে চরাঞ্চলে দ্রুত ভিত্তিতে খাদ্য সহযোগিতা, ঋণ মওকুফ ও আগামী মৌসুমে বীজ,সার ও ভর্তুকির দাবী করেছেন খোদ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৪/৫ দিনে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এ পর্যন্ত শিবচরের ৮ হাজার বিঘার পাট, ২৫শ’ বিঘার বাদাম ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও গত মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রথমে ঘূর্ণিঝড় লায়লার প্রভাবে পানি বেড়ে, পরে ঢলের পানি বেড়ে ৮ হাজার বিঘার বোরো ধান ৩১শ’ বিঘার বাদামসহ বিভিন্ন ফসল বিনষ্ট হয়েছিল। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৯০ ভাগই শুধুমাত্র জনবিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি, বন্দরখোলা ও মাদবরচর ইউনিয়নেই হয়েছে। এছাড়াও গত সপ্তাহে টর্নেডোতে চরাঞ্চলের প্রায় ৪শ’ ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছিল।
চরাজানাজাতের রশিদ সরকারেরকান্দি কৃষক আবু বকর বলেন, ‘গত ১ মাসে প্রথম দুই বারে ধান-বাদাম সব গেছে বাকি কয়ডা পাট আছিলো তাও এবারের পানিতে গেলো। সুদে টাহা আইনা ফসল করছিলাম। হেগো টাহাই দিমু কইর থিকা । নিজেরাই খামু কি?’
চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান বজলু সরকার বলেন, ‘পাটই ছিলো চরের কৃষকের শেষ ভরসা। তাও গেলো। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু কৃষকদের ধান-পাট-বাদাম সব নষ্ট হলেও কোন সাহায্য পেল না। ঋণের ও মহাজনের সুদের টাকার জন্য চরের ঘরে ঘরে ঝগরা-কলহ বাড়ছে। অসহায় কৃষকরা খুব যন্ত্রণায় পড়ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘তৃতীয় দফা পানিতে ক্ষয়ক্ষতি ১৫ কোটি টাকার অধিকাংশই চরাঞ্চলের। শুধুমাত্র কৃষির উপর নির্ভরশীল জনবিচ্ছিন্ন চরের মানুষের এত বড় ক্ষতি তাদের চলমান জীবনকেও চরমভাবে ব্যহত করবে। ঋণসহ বিভিন্ন সমস্যায় ওদের জীবনে নেমে আসতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। আর এ সংকট ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে চরাঞ্চলে বিশেষ ভিজিএফ চালু করা উচিৎ। সাথে বর্ষার পরে চরের মানুষের জন্য বীজ, সার বিতরণ ও ঋণ মওকুফ করা উচিৎ।’
