সাইট উন্নয়নে আপনাদের লেখা ও পরামর্শ চাচ্ছি-সম্পাদক

'আমেরিকান সিটিজেন স্বামীহারা সন্তানহীন পাত্রীর জন্য দায়িত্ববান পাত্র চাই'


11 May 2010 :: 11:22 am
শিবচর 'আমেরিকান সিটিজেন (২৮) স্বামীহারা সন্তানহীন পাত্রীর জন্য দায়িত্ববান পাত্র চাই।' দেশের নামিদামি পত্রিকাগুলোতে এ ধরনের বিজ্ঞাপনের রয়েছে ব্যাপক কদর। অথচ এর আড়ালেই অহরহ ঘটছে প্রতারণা। এবার এ রকমই একটি প্রতারণার শিকার শিবচর পৌর এলাকার সুরুজ মাদবর (৩০)। 
সুরুজ মাদবরের আছে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে। শিবচর পৌরসভার চরগুয়াতলা বাহেরচরে তাঁর বাড়ি। মৌসুমী ব্যবসায়ী, ভালোই চলছিল সংসার। ইউরোপের যেকোনো দেশে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় পত্রিকায় মোবাইল ফোন নম্বরসহ 'আমেরিকান সিটিজেন (২৮) স্বামীহারা সন্তানহীন পাত্রীর জন্য দায়িত্ববান পাত্র চাই' লেখা বিজ্ঞাপন পড়ে ফাঁদে পা দেন সুরুজ। যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে ঢাকায় দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁকে। ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কুড়িল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এআরএস ৬তলা ভবনের ষষ্ঠতলায় যান সুরুজ। তাঁকে জানানো হয়, কনের আমেরিকায় চারটি বাড়ি এবং ঢাকার বনানীতে ৬ নম্বর রোডে একটি ১২তলা বাড়ি আছে। এ ছাড়া তিনটি তৈরি পোশাক কারখানাও আছে তাঁর। সব শুনে সুরুজ বিয়েতে রাজি হওয়ায় এক হাজার ৭০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে কনে দেখাদেখি শেষে ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পাঁচ হাজার টাকা কাবিন খরচ দিয়ে আমেরিকায় বসবাসকারী নাসরীন সুলতানা রিয়ার (৩০) সঙ্গে এফিটেভিটের মাধ্যমে বিয়ে হয় তাঁর। এরপর নিজের ভাগের জমিটুকু বিক্রি করেন। শ্বশুরবাড়ি থেকেও চাপের মুখে টাকা আনেন। গত আড়াই মাসে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মার্কেটিং খরচবাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা সুরুজের দিতে হয় নতুন স্ত্রী রিয়াকে। এর মধ্যে গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে রিয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের উত্তর সখীপুরে পাঁচ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন সুরুজকে। সুরুজও নতুন স্ত্রীকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হাতখরচ দেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমেরিকার ভিসা না হওয়ায় এপ্রিলের মধ্যসপ্তাহ থেকে রিয়াকে চাপ দিতে থাকেন সুরুজ। পরে কাগজ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ১৪ মে ফ্লাইটের কথা জানিয়ে রিয়া ভিসার জন্য আরো এক লাখ টাকা চান। সুরুজ নতুন বিয়ের কথা গোপন রেখে আমেরিকায় যাওয়ার কথা বাড়িতে জানান। চলতি মে মাস থেকে বারবার রিয়া এক লাখ টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করলে সন্দেহ হয়। সুরুজ বিষয়টি তাঁর খালু ইমরান বেপারিকে জানান। পরে খালু ও সুরুজ শলাপরামর্শ করে নিজের কাছে টাকা না থাকার কথা বলে রিয়াকে টাকা নিতে খালুর বাড়ি আসার কথা বলেন। গত শনিবার রিয়া শিবচরে আসার কথা। কিন্তু শুক্রবার সকালে সুরুজ ও তাঁর খালু সুরুজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত টাঙ্গাইলের উত্তর সখীপুরে পাঁচ শতাংশ জমি যাচাই করতে গিয়ে দেখেন জমির মালিক সুরুজ নন। আকাশ ভেঙে পড়ে সুরুজের মাথায়। মাথা ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শ দেন খালু। শনিবার বেলা ১১টায় সুরুজের সঙ্গে শিবচরে আসেন রিয়া। সেখানে শিকলে বেঁধে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হলে বেরিয়ে আসে রিয়া নামধারী দুই সন্তানের মা সোনালি দেবনাথের 'আমেরিকান কন্যা' সাজার নানা কাহিনী। রবিবার আশেক নামের রিয়ার এক আত্মীয় সুরুজকে ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে গেছেন। সোমবার রাত আড়াইটায় কথিত সোনালি দেবনাথকে সুরুজের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে শিবচর থানার পুলিশ। 
প্রতারণার শিকার সুরুজ মাদবর বলেন, 'আমি অনেক দিন ধরেই বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতাছি। এ জন্য জমিও বিক্রি করছি। শ্বশুর বাড়িতেও টাকা চাইছি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেইখা যোগাযোগ করি। সবার অজান্তেই রিয়াকে বিয়ে করি। টাকা দেই। সবাই আমার সাথে এত সুন্দর অভিনয় করে, বুঝতে পারি নাই সব সাজানো।' 
সুরুজের স্ত্রী লুবনা বেগম বলেন, 'আমার দুই সন্তান। অবস্থাও খারাপ না। এর পরও সে এগুলা কইরা ধরা খাইল। এই মহিলা আরো অনেক যুবকের জীবন নষ্ট করছে। দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।' 
সুরুজের খালু ইমরান বেপারি বলেন, 'বিষয়টি জানার পর আমার খটকা লাগে। এরপর আমি ও সুরুজ যাচাই করে বুঝতে পারি এটি ভূয়া। মেয়েটি বড় কোনো চক্রের। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।' 
রিয়া রূপী সোনালি দেবনাথ বলেন, 'যে টাকা নিই, তার ১০ ভাগ টাকা আমি পাই, বাকিটা মিডিয়া অফিসের মাহমুদ, তারেক, নাজমারা নেয়। আমার মতো আরো অনেক মেয়ে কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের সিটিজেন পরিচয়ে এই কাজ করে। শারীরিক গঠন সুন্দর মেয়েরাই এ কাজে আসে। আমাকে দিয়ে এ পর্যন্ত ৮-১০ জন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করানো হয়েছে।' 
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. জলিল বলেন, 'মেয়েটি বড় ধরনের প্রতারক চক্রের সদস্য। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি। তবে যুবকটিও ভালো না। কারণ, সে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। আবার কথিত স্ত্রী রিয়াকে তিনদিন শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।'
Read More ... »

পদ্মার বুকে মাছের ফাঁদ

09 May 2010 :: 11:18 am
বড়শি দিয়ে ডিঙি নৌকায় চড়ে মাছ ধরছেন সামছুদ্দিন ভাংগী। ধান ও বাদাম তলিয়ে গেছে তাই সাতজনের সংসারের এই কর্তাকে মাছ ধরে তা বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার দিতে হয়। শুধু সামছুদ্দিন নন, বর্ষায় চরাঞ্চলের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ চরের বাসিন্দাকে মাছ ধরার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে বিস্তৃত পদ্মা নদীতে বাড়ছে মাছ ধরার অবৈধ বাঁধ। তাও একটি দুটি নয়। রবিবার পর্যন্ত কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক অবৈধ বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে এই অবৈধ বাঁধের সংখ্যা। গত ৭ থেকে ১০ দিনে পানি বৃদ্ধির ফলে এখন শিবচরের পদ্মায় অবৈধ নদী জোড়া আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মাছ, জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে। তাই চরাঞ্চলের ফসল হারানো হাজার হাজার হতদরিদ্র কৃষক শেষ ভরসা মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন সবাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যেন দেখার কেউ নেই। খোদ মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, তাদের নেই অভিযান চালানোর আইনগত ক্ষমতা। এ সুযোগে অপতৎপরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাওয়া-কাওরাকান্দি রুটের মূল চ্যানেলেও দেখা গেছে এ অবৈধ বাঁধ। ফলে নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সরেজমিনে পদ্মা নদী ঘুরে দেখা গেছে, কাওরাকান্দি ফেরিঘাটসংলগ্ন পদ্মায়, জনবিচ্ছিন্ন চরজানাজাতের কাওলিপাড়া, চরচান্দ্রা, জলসন, নেপালের হাওর, পোড়াকান্দিরখোল, মীর আলী সরদারকান্দি, বাড়ইকান্দি, চানবেপারিকান্দি, কাঁঠালবাড়ী, মাগুরখণ্ড, মাদবরচর, বন্দখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে নদীজুড়ে আড়াআড়ি প্রায় অর্ধশতাধিক বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে নিধন চলছে। একেকটি বাঁধ ২০০ মিটার থেকে ৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। বাঁধগুলোতে অসংখ্য বাঁশ গেড়ে মশারি, ছালা বা কারেন্ট জাল দিয়ে ঘেরা। নিচে মাছ আটকানোর দোয়াইর ও বড়শি। ফলে জাটকা, চিংড়ি, রুই, কাতলা, আইড়, পাঙ্গাস, বোয়ালের মা মাছ ও পোনাসহ বিভিন্ন মাছ আটকা পড়ছে। বাঁধগুলোতে ব্যবহৃত জাল দিয়ে এক ইঞ্চির পোনা মাছ বের হওয়ারও সুযোগ নেই। অথচ সাড়ে চার সেন্টিমিটারের নিচে ফাঁসযুক্ত জাল ব্যবহার ও নদীতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতামূলক বাঁধ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এদিকে চরাঞ্চলে আরো অর্ধ সহস্রাধিক অবৈধ বাঁধ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। এসব বাঁধের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা জড়িত বলে জেলেরা অভিযোগ করেন। তবে বাঁধগুলোর অধিকাংশ মাছ শিকারী সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে। 
দক্ষিণ চরজানাজাত এলাকার একটি অবৈধ বাঁধের জেলে করিম মিয়া জানান, সেখপুরের জনৈক ব্যক্তি এই বাঁধ দিয়েছে। তাঁকে দৈনিক বেতনে রেখেছে। এই বাঁধে ছোট-বড় সব ধরনের মাছই ধরা পড়ে।
সাধারণ পদ্ধতিতে মাছ ধরতে থাকা জেলে ইউনুছ বলেন, 'যে বানগুলা (বাঁধ) দেহেন। এইগুলা সব বাইরের মাইনষে দিছে। চরের মাইনষের কি এত টাহা আছে? এহন আর কয়ডা বান। সামনে শত শত বান দিব। তাতে চরের হাজার হাজার মাইনষের কোনো উপকার হয় না। এই বছর চরের কৃষকের সব ফসল নষ্ট হইছে। মাছও যদি না পায় কেমনে চলব?' চন্দ্রপাড়া এলাকার জেলে দলের সর্দার আফসার উদ্দিন বলেন, 'মূল পদ্মায়ও বান আছে। ফেরিতে যে মন্ত্রী আর অফিসাররা যায় তারা কি চোহে দেহে না? নদীতে কী হইতাছে।'
চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান বজলু সরকার বলেন, 'পদ্মায় পানি বাড়ায় ইতিমধ্যেই অর্ধশতাধিক অবৈধ বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে পোনা মাছ ও মা মাছসহ সব ধরনের মাছ নিধন শুরু হয়েছে। বাহিরের মানুষ টাকা দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে বর্ষায় শত শত বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে।'
শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, 'মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের নদীতে অভিযান চালানো দুরূহ হওয়ায় বাঁধের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তা ছাড়া আমরা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও কোনো অভিযান চালাতে হলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আইনগতভাবে মৎস্য বিভাগ অভিযান চালাতে পারে না। এ ছাড়া বাঁধ অপসারণের জন্য বাজেটও অপ্রতুল।' এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'নদীতে কোনো প্রকার বাঁধ দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি বিষয়টি জেনেছি। শিগগিরই চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে সব বাঁধ অপসারণ করা হবে।'
Read More ... »

ডাকাতি শেষে পালানোর সময় শিবচরে ৩ চরমপন্থী অস্ত্র, গুলি ও ডাকাতির মালামালসহ আটক

09 May 2010 :: 10:15 am
শিবচরের নিলখীতে ৩ বাড়িতে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ৩ চরমপন্থীকে ধারালো অস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ও ডাকাতির মালামালসহ মনির মোল্লা গ্রুপের ৩ চরমপন্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল জানান, গত রাতে (শনিবার রাত ২ টায় ) চরমপন্থী নেতা মনির মোল্লার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের চরমপন্থী পুলিশ এএসআই মোবারকের পরিচয় দিয়ে নিলখীর চরকামারকান্দি গ্রামের রাজা সিকদার, নাজমা বেগম ও মোহাম্মদ মাদবরের ঘরে প্রবেশ করে। চরমপন্থীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। চরমপন্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালাতে থাকে। এসময় এলাকাবাসী ধারালো অস্ত্র ও গুলিসহ বাদশা হাওলাদারকে (৩৮) আটক করে। পরে শিবচর থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে শহিদুল রাড়ী (২৬), বাবুল মিয়াকে (২৮) ডাকাতিকৃত ৩টি মোবাইল সেট, একটি বডিস্প্রে, একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করে। 
Read More ... »

শিবচর-মাদারীপুর সড়কে গাছ কাটার মহোৎসব ॥ অপ্রশস্ত সড়ক প্রশস্তের নামে প্রশস্ত সড়কেরই গাছ নিধন

07 May 2010 :: 12:25 pm
মাদারীপুর-শিবচর সড়কে গাছ কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করার জন্য অপ্রশস্ত সড়কের বাধা সৃষ্টিকারী গাছ কাটার কথা থাকলেও প্রশস্ত সড়কের গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। তাও আবার প্রশস্ত সড়কের পাশের অনিরাপদ গাছ রেখে কাটা হচ্ছে নিরাপদ দূরত্বের মোটা গাছগুলো।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ঠিকাদার ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, পাঁচ্চর-শিবচর-মাদারীপুর সড়কের ১৮তম কিলোমিটার অংশ হতে ৩৪তম কিলোমিটার অংশ পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে সড়ক ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুট প্রশস্তকরণে বাধা সৃষ্টিকারী বৃক্ষাদি অপসারণকল্পে নিলাম দেয়া হয়। ঢাকার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের কার্যালয় থেকে মোট ১৬টি ভাগে ১৫২টি গাছ ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের দায়িত্ব দেয়া হয় ৭ জন ঠিকাদারকে। প্রথম গ্রুপের ৯টি গাছ ৫০ হাজার ৮শ ৮০ টাকা, দ্বিতীয় গ্রুপের ১০টি গাছ ৪৭ হাজার ৯শ ৪০ টাকা, তৃতীয় গ্রুপের ১২টি গাছ ৪৯ হাজার ৯শ ৫৮ টাকা, চতুর্থ গ্রুপের ২০টি গাছ ৪৮ হাজার ৬৪ টাকাসহ ১৬টি গ্রুপে গাছগুলো নিলাম হয়। ইতোমধ্যে গত বুধবার থেকে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নে শেখপুর অংশে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রুপের গাছগুলো অপসারণ শুরু হয়েছে। গাছগুলোও সড়কটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরও গাছগুলো কর্তন করায় ও সব গাছগুলো পানির দরে বিক্রি করায় এলাকাবাসীসহ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় দরপত্রে সড়ক প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে গাছ অপসারণের কথা উল্লেখ থাকলেও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কেই চলছে গাছ নিধন। 
সরেজমিনে সড়কটির শেখপুর শিকদারকান্দি সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোট ২৩ জন শ্রমিক ৩ ভাগে ভাগ হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রপের গাছগুলো অপসারণ করছে। ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কের অংশে ৯ ও ১০ নং গাছ (লাল কালির চিহ্ন সম্বলিত) দুটি নিরাপদ দূরত্বে নদীর দিকে হেলে থাকতে দেখা গেলেও গাছগুলোকে সড়কটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা  করে কাটা হচ্ছে। এছাড়াও ৭ নং চিহ্ন সম্বলিত শিশু গাছসহ অধিকাংশ গাছগুলো ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কের নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও গাছগুলো কর্তন করা হচ্ছে। ৭নং গাছটিসহ অধিকাংশ কর্তনকৃত গাছগুলোর পার্শ্ববর্তী চিকন গাছগুলো সড়কটির অনিরাপদ দূরত্বে থাকলেও বেছে বেছে পুরাতন ও মোটা গাছগুলোই কর্তন করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিকদারকান্দি গ্রামের মোতালেব খান বলেন, সড়ক ১৮ ফুট করবো তাই গাছ কাটতাছে। কিন্তু শেখপুর ব্রিজের পর সামনের মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা ১৮ ফুটই আছে। তারপর এই গাছগুলা কাটে কেন? গাছগুলাতো হেইলা আছে নদীর দিকে রাস্তার সমস্যা কি? আসল কথা হইলো শিশু গাছ, কড়ই গাছ, মেহগিনি গাছগুলা মোটা হইছে সারও হইছে। এইজন্য হেগো নজর লাগছে। নাইলে রাস্তার ভেতরের চিকন গাছ থুইয়া রাস্তার বাইরের মোটা গাছ কাটবো কেন!
স্থানীয় এলাকাবাসী মজিবর, রবিউলসহ অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন, রাস্তা বাড়ানোর নাম করে সড়ক-ঘেষা গাছগুলো না কেটে নিরাপদ দূরত্বে থাকা মোটা ও বড় গাছগুলো দেদারসে কাটা হচ্ছে। যার এক একটির মূল্য কম করে ২৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অথচ টেন্ডারে ১০-১২টি গাছের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ থেকে ৫২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাঁশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শেখপুর সেতুর পর ইটভাটা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত। এ অংশে একটি মরা শিশু গাছ ছাড়া বাকি কোন গাছই সড়কটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. আলীম বলেন, আমরা ২৩ জন শ্রমিককে ১ হাজার সিএফটি কাঠ কাটার চুক্তিতে আনা হয়েছে। ১ হাজার সিএফটিতে অন্তত ২শ গাছ হবে।
গাছ কাটা শ্রমিকদের ঠিকাদার মো. সরোয়ার বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখিয়ে দেয়া গাছগুলোই কাটা হচ্ছে। বাকি কিছু বলতে পারব না।
নিলামে ৬টি গাছের গ্রুপ ক্রয়কারী ঠিকাদার লিটন শিকদার বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আমরা ৭ জন ঠিকাদার এই সড়কের ১৬টি গ্রপের ১৪৫ অথবা ১৫২টি গাছ ক্রয় করেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের মার্কিং করা গাছই কাটছে ঠিকাদাররা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বরত উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস বলেন, সড়কটির ১৮তম কিলোমিটার থেকে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কে ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুট প্রশস্তকরণে বাধা সৃষ্টিকারী ১৫২টি গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে কাটা শুরু হয়েছে। তবে সড়কটির স্বার্থেই ১৮ ফুট প্রশস্ত শেখপুর এলাকার ১ কিলোমিটার ও সাদীপুর অংশের দেড় কিলোমিটার এলাকার বেশকিছু গাছও কাটা হচ্ছে। এরমধ্যে শেখপুরের মসজিদ সংলগ্ন ২/৩টি গাছ নিরাপদ দূরত্বে থাকা সত্বেও মুসল্লীদের অনুরোধে কাটা হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের হলেও গাছ কাটার সময় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা করেনি। আমার কাছেও বিষয়টি নিয়ে নানান অভিযোগ এসেছে। কিন্তু গাছগুলো সওজ-এর হওয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারছি না।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রেজ্জাক বলেন, মূলত গাছ কাটতে হবে ১২ ফুট প্রশস্ত সড়ক অংশে। তবে কোন গাছ ১৮ ফুট অংশে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সেই গাছ কাটতে পারে।
Read More ... »

এবার ভেঙ্গেছে বাঁধ : তলিয়ে গেছে নতুন নতুন ফসলের ক্ষেত


06 May 2010 :: 11:21am
শিবচরের চরাঞ্চলে এবার কাওলিপাড়া বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে অন্তত ১২শ’ বিঘার ধান। পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরোর মাঠ,বাদামের ক্ষেত। বিশেষ করে চরাঞ্চলের একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে হাহাকার নেমে এসেছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্লাবণকে চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য মহাবিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ধার-কর্য বা ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তায় কৃষকের ঘরে এখন শুধু বিষন্নতা। 
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে,গতকাল বুধবার সকালে চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাওলিপাড়া বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ১২শ বিঘার ধান নিমিষেই তলিয়ে যায়। পদ্মাবেষ্টিত এ চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন মাদবরচর,চরজানাজাত,বন্দরখোলা,কাঁঠালবাড়ির ১০ হাজার কৃষকের অন্তত ১৫ হাজার বিঘার বোরো ধান ও আড়াই হাজার বিঘার বাদাম পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ৩ দিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও পূর্ণিমার প্রভাবে পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলের একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকের ঘরে ঘরে আহাজারি নেমে এসেছে। পানি বৃদ্ধির গতি অস্বাভাবিক হওয়ায় হাজার হাজার বিঘার জমির কাচা ধান পানির নিচেই রয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের উপর দিয়ে এখন ট্রলার ও নৌকা চলতে দেখা গেছে। একদিকে ধান ও ফসল হারানো অপরদিকে মহাজন,ব্যাংক ও এনজিওদের ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। কৃষক ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে চরাঞ্চলজুড়ে হাহাকার নেমে এসেছে। চরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিরা এ সংকটকে কৃষকের জন্য চরম বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। 
মাদবরচরের হাফিজ মিয়া বলেন,এ বছর আগেভাগে পানি আহায় আমাগো চরের হাজার হাজার বিঘার ধান ও বাদাম তলাইয়া গেছে। এবার আমরা পুলাপাইন নিয়া কি খামু? ধানই পামু কই? ধার বা ঋণের টাকাই বা দিমু কইর থিকা? আল্লায় জানে। দয়া কইরা আমাগো বাঁচান। 
চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান বজলু সরকার বলেন, এই চরের চারটা ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ এই ধান ও বাদামের উপর নির্ভরশীল। বাকি সময় এই জমিতে পানি থাকে। তাই ফসল হারিয়ে কৃষকদের ঘরে এখন শুধু হাহাকার। 
মাদবরচর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় চরের হাজার হাজার বিঘার প্রতিদিন ধান ও বাদাম এখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, চরাঞ্চলসহ সারা উপজেলার ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে চরের কৃষকের এক্ষতি তাদের জন্য চরম সংকট আকারে দেখা দিবে। কারণ এ ফসলের উপরই মূলত হতদরিদ্র এ মানুষগুলো নির্ভরশীল। চরে হাহাকার নেমে আসবে। 
Read More ... »

নদ-নদী-খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি : ধান ও বাদামের ক্ষেত প্লাবিত

29 April 2010 :: 10:13am
শিবচরের পদ্মা, আড়িয়াল খাঁসহ সকল নদ-নদী খাল-বিলে গত ২৪ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধান ও বাদামের ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচরের নদ-নদী খাল-বিলে প্রায় এক থেকে দেড় হাত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিবচর পৌরসভা, বাঁশকান্দি, উৎরাইলসহ চরাঞ্চলের নদী তীরবর্তী প্রায় ৩ হাজার পাঁচশ বিঘা জমির আধা পাকা ধান ও প্রায় ২ হাজার ১শ বিঘার বাদাম প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আগেভাগেই নিম্নাঞ্চলের ধান প্লাবিত হওয়ায় ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট না হলেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যহত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। মাঠে পানি চলে আসায় কৃষক আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচরের নদী-খাল-বিলে প্রায় দেড় হাত পানি বেড়ে নতুন নতুন মাঠ প্লাবিত হয়ে এই পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার সাতশ বিঘা ধান ও প্রায় ২ হাজার একশ বিঘা জমির বাদাম প্লাবিত হয়েছে। 
Read More ... »

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দেওয়া হলো বাল্যবিয়ে


23 April 2010 :: 11:21am

শিবচর উপজেলার পদ্মানদী বেষ্টিত চরজানাজাত ইউনিয়নের আবদুল মজিদ বেপারীর কান্দি গ্রামে আবদুল কুদ্দুস শিকদারের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে সারমিন আক্তার (১৩) একই ইউনিয়নের আলতাফ খানের ছেলের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। গত দুইদিন থেকে বিয়ে বাড়ির ধুম ধাম চলে। বিয়ের দিন পোলাও, মাংস, মাছ, মিষ্টান্নসহ সকল ধরনের রান্না প্রায় শেষ। নিকটাত্মীয় স্বজনেরা এসেছে বিয়ে বাড়িতে। কিছুক্ষণের মধ্যে বর আসবে। এর মধ্যে মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণে বিয়ে বন্ধের জন্য বাঁধা হয় শিবচর উপজেলা প্রশাসন। 
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ বেপারি কান্দি গ্রামের আবদুল কুদ্দুস শিকদারের মেয়ে ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রী মোসাম্মৎ সারমিন আক্তার (১৩) সঙ্গে একই ইউনিয়নের আলতাফ খানের ছেলে তোফাজ্জেল খান (২২) এর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। গত বৃহস্পতিবার (২২-০৪-১০) ছিলো বিয়ের ধার্য করা তারিখ। কিন্তু আপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্যাপারটি এলাকার একটি সচেতন মহল শিবচর উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। গতকাল দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা ও উপজেলা লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশনের সহায়তায় বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।
অপ্রাপ্ত কনের মা মোসাঃ রুনা বেগম বলেন, “পোলাও, মুরগীর রোস্টসহ রান্না প্রায় শেষ হইয়া গেছে। বাকি আছিলো মাংস আর মিষ্টান্ন। কিন্তু তার মধ্যে খবর পাইলাম মাইয়ারে বিয়া দেওয়া যাইবো না। আমরা আগেই জানতাম মেয়ের বিয়া বয়স হয় নাই। কিন্তু তার পরেও মেয়েকে বিয়া দেওয়া জন্য রাজি হই। কারণ এলাকার কিছু ছেলেরা আমার মেয়েটে জ্বালাতন করতো। এবং মেয়ের বাবা বিদেশে চলে যাবে। আমি একা বাড়িতে থাকবো তাই বিয়া দিতে চাইছিলাম।”
চরজানাজাত ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, মেয়েটি আমাদের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। মেয়েটি মেধাবী কিন্তু কেন যে বাবা-মা বিয়ে দেওয়া জন্য রাজি হলো বুঝতে পারি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গত বুধবার রাতে চরজানাজাত ইউনিয়নের বেপারী কান্দির এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোবাইলের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। পরে শিবচর উপজেলা চেয়াম্যান, শিবচর থানা ও উপজেলা লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশনে ফোন করে তাদের অবগত করি। মেয়েটি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক তাই বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। 
Read More ... »

শিবচরে মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় আহ্বান- এসিড-সন্ত্রাস বন্ধ করতে মাদককে না বলুন

22 April 2010 :: 12:13pm
‘এসিড-সন্ত্রাস বন্ধ করতে মাদককে না বলুন। এসিডের সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বেশিরভাগই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই এসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অবশ্যই আমাদের মাদককে না বলতে হবে।’ আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় শিবচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম তালুকদার এ কথা বলেন। 
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম, রিজিয়া বেগম মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক বাবুল আশরাফ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে এম নাসিরুল হক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শিবচর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রাহা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় শিবচরের কুতুবপুর ইউনিয়নের সামসুদ্দিন মৌলভীরকান্দি গ্রামের এসিডদগ্ধ হেলেনা বেগমের (৩০) স্বামী শওকত হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে এসিড মারার ফলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। এতে আমার চার মাসের মেয়ে জাফরিন আজ ছয় দিন ধরে বুকের দুধ খেতে পারছে না। ওর কষ্ট আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আপনাদের কাছে আমি এর বিচার চাই।’ গত ১৬ এপ্রিল রাতে তিন সন্তানের মা হেলেনা বেগমের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। 
এ প্রসঙ্গে ইউএনও বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শিগগিরই আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এসিড-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
সকালে আলোচনা সভার আগে একই স্থানে মানববন্ধন হয়।
Read More ... »

শিবচরে খড়ায় ও পানির অভাবে বপণকৃত বীজ গজাচ্ছে না ।। হাজার হাজার পাটচাষীর কপালে ভাঁজ

19 April 2010:: 03:13pm
পাটের জন্য বিখ্যাত শিবচরের হাটগুলোতে পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ২৯শ’ টাকায়। নিম্নমানের পাটও বিক্রি হচ্ছে ১৯শ’ থেকে ২১শ’ টাকায়। তাই কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি। কিন্তু এ কৃষকের মুখের তৃপ্তির হাসি ম্লান করে টানা অনাবৃষ্টির ভাজ এখন অন্তত ৩০ হাজার পাটচাষীর কপালে। 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, পাটের জন্য বিখ্যাত মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার পাট চাষী রয়েছে। চলতি বছর পাটের উচ্চ মূল্যের কারণে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার একর জমিতে পাটবীজ আবাদ করা হয়। এরমধ্যে সাড়ে ৭ হাজার একর জমিতে সেচের মাধ্যমে পাট আবাদ শুরু হলেও ৩০ হাজার একর জমিতে সেচ সুবিধা নেই। তাই প্রখর রোদে অধিক তাপমাত্রায় মাটি গরম হয়ে ৩০ হাজার একর জমিতে বপণকৃত বীজ উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। 
উপজেলাটি পদ্মা, আড়িয়াল খাঁসহ ১০৭টি জলাশয় অধ্যুষিত নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠের শেষ দিক থেকে আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময়েই উপজেলার বেশিরভাগ জমিই পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে এ উপজেলায় চৈত্র মাসের শুরুতেই পাট আবাদ (বীজ বপণ) শুরু হয়। চলতি বছর পাটের মূল্য ২৭শ’ থেকে ২৯শ’ টাকা হওয়ায় এ বছর কৃষকরা পাট আবাদে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু এ অঞ্চলে চৈত্র শেষেও কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল ৩০ হাজার একর জমিতেই বীজ গজায়নি। আর সেচের উপর নির্ভরশীল সাড়ে ৭ হাজার একর জমির পাট গজালেও কৃষককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে দফায় দফায় সেচ দিতে হচ্ছে বলে কৃষি কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে । 
শিবচর পৌর এলাকার ডিসি রোডের কৃষক অরুণ হাওলাদার বলেন, এই বৎসর পাটের দাম মণ প্রতি ২৭শ’ থেকে ২৯শ’ টাকায় উঠছে। এই লাইগা আমরা হাজার হাজার কৃষক খুব খুশি হইয়া আরো বেশি জমিতে পাট বুনছি। কিন্তু এহন বৃষ্টির লাইগা আমাগো মাঠের পর মাঠের পাট গজাইতেছে না। আমরা এহন কি করমু ? জানি না। সামনের বৈশাখের পর জ্যৈষ্ঠ থিকাই মাঠে জল আইবো। অথচ গত ১ মাস ধইরা বীজ বুইনাও বৃষ্টির অভাবে গজাইতেছে না। 
উৎরাইলের কৃষক এনাছউদ্দিন বলেন, ৬ বিঘা জমিতে সেচ দিতাছি। আর ৩ বিঘা জমি সেচের বাইরে ওই জমিতে ১ মাস ধইরা বীজ ছিডাইয়া রাখছি। যে খড়ার তাপ। এক একবার প্লাবন সেচ দিতে বিঘায় ৭শ’ টাকা খরচ হইতাছে। বৃষ্টি না হইলে পাট কোনভাবেই ভালো হইবো না। কৃষকরা মারা পরবো। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, পাটের উপর এ উপজেলার কৃষি অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির পাট উৎপাদন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যার সাথে প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের ভাগ্যও জড়িত। উপজেলাটি নিম্নাঞ্চল, তাই দু’মাসের মধ্যে পানিতে প্লাবিত হওয়ার শংকা থাকায় পাট আবাদ চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। 
Read More ... »

উত্তাল পদ্মা :: মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ৬টি ফ্লাট ফেরি চলাচল বন্ধ

18 April 2010 :: 03:15pm
ঝড়ো হাওয়ায় পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠায় দুর্ঘটনা এড়াতে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটের ৬টি ফ্লাট ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মাত্র ৪টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, আজ রোববার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারায় সকাল ৯টা থেকে এরুটের ৬টি ফ্লাট ফেরি ল্যান্টিং, থোবাল, রায়পুরা, যমুনা, রানীগঞ্জ ও টাপলো চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ২টি রো রো ফেরি, ১টি কে টাইপ, ১টি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। এসময় উভয় পাড়ে প্রায় আড়াই শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। এদিন ঝড়ো হাওয়ার কারণে লঞ্চসহ সকল নৌযান চলাচলই ব্যহত হয়। 
বিআইডব্লিউটিসির সহকারি মহাব্যবস্থাপক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ঝড়ো হাওয়ায় ফ্লাট ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার ঝুকিপূর্ণ। তাই এই ফেরিগুলো বন্ধ করা হয়েছে। বাতাস কমলেই ফেরিগুলো সচল হবে।
Read More ... »

এসিড সন্ত্রাসের শিকার শিবচরের এক গৃহবধু

17 April 2010 :: 02:03pm
উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সামসুদ্দিন মৌলভীরকান্দি গ্রামে হেলেনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধু এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা এসিড নিক্ষেপ করলে হেলেনা বেগমের গলা (ঘাড়ের একাংশ), বুক, স্তন ও পা ঝলসে গেছে। তাকে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 
পারিবারিক সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শুক্রবার গভীর রাতে (সাড়ে দশটায়) শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সামসুদ্দিন মৌলভীরকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী শওকত শেখের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী হেলেনা বেগমের (৩০) শরীরে এসিড ছুড়েন স্থানীয় প্রভাবশালী ছামাদ ঘরামিসহ ৪/৫জন সন্ত্রাসী। এসময় হেলেনার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে হেলেনাকে উদ্ধার করে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 
হেলেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, রাত সাড়ে দশটার দিক আমি আর শিশু কন্যা জান্নাত (১) ঘরে বইসা কেক খাইতেছিলাম। হঠাৎ কইরা গালে ও শরীরে পানি ছিডা লাগে। আমি জানালা দিয়া টর্চ মাইরা দেহি ছামাদ ঘরামিসহ ৪/৫জন দৌড়াইয়া যাইতাছে। ততক্ষণে শরীর দেহি পুইড়া যাইতাছে। পরে আশে পাশের মানুষ সারা শরীরে পানি দিছে। প্রায় এক বছর আগে আমি ছামাদ ঘরামির কাছ থিকা সুদে ২০ হাজার টাকা আইনা একজনরে দিছিলাম। এরপর থিকাই হে আমারে কুপ্রস্তাব আর টাকার জন্য চাপ দিতো। 
হেলানার স্বামী শওকত বলেন, ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। ছামাদ ঘরামি অনেকদিন ধইরাই হেলেনারে কুপ্রস্তাব দিতাছিলো। এইজন্যই রাগ হইয়া সম্ভবত সে এসিড মারছে। 
পার্শ্ববর্তী তারা বিবি বলেন, এর আগেও ছামাদ ঘরামি টাহা ও নজর খারাপ দেইখা হেলেনারে আমার বাড়িতে আইয়াই মাইর ধইর করছিলো। কালকো রাইতে হেলেনার চিৎকার হুইনা যাইয়া দেহি ওর মেক্সি পুইরা গেছে , সারা শরীরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হইছে। 
অভিযুক্ত মো. ছামাদ ঘরামি মোবাইলে জানান, স্যার ওর সাথে আমার টাকার কোন ঝামেলা নাই। এটা আমার সাথে শত্রুতা। অন্য কেউ এই ঘটনা ঘটাইছে। আর দোষ পড়ছে আমার ঘাড়ে। 
কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম সিকদার বলেন, মানুষ কেমনে মানুষরে এসিড মারে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ঝলসানোর ধরণ দেখে মনে হচ্ছে এটি দুর্বল এসিড (কার্বলিক বা ব্যাটারির জন্য ব্যবহৃত)। এসিডে তার গলা, বুক, বাম স্তন, মুখের আংশিক ও বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
শিবচর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল বলেন, এ ব্যাপারে ৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
Read More ... »

স্বাস্থ্য সহকারি পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে চাকরিবঞ্চিতরা

15 April 2010 :: 07:11pm
অনিয়মের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারি পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে চাকরিবঞ্চিতরা। এঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টার সময় ২৫/৩০ জনের চাকরিবঞ্চিতদের একটি দল মিছিল সহকারে এসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন কক্ষে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধরা স্বাস্থ্য সহকারি পদে দুর্নীতি মানি না , মানবো না স্লোগান দিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের জানালার কাচ ভাংচুর করে। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে চাকুরি বঞ্চিতরা পালিয়ে যায়। হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 
বিক্ষুব্ধ চাকরিবঞ্চিতরা জানায়, বৃহস্পতিবার মাদারীপুর জেলা স্বাস্থ্য সহকারি পদের ফলাফল প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায় অযোগ্যরা ৪/৫ লাখ টাকার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছে। তাই আমরা বিক্ষোভ করছি। এই ফলাফল আমরা মানি না। 
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসিফ আহমেদ জানান, হঠাৎ ২৫/৩০ জনের চাকরিবঞ্চিতরা স্লোগান দিতে দিতে লাঠিসোটা নিয়ে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুর চালিয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্বাস্থ্য সহকারি পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিবাদে চাকরিবঞ্চিতরা এ ভাংচুর চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভাংচুরকারীদের সনাক্ত করতে গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছে।
Read More ... »

শিবচরে ৩ ডাকাত এলজিসহ গ্রেফতার ।। হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত ২

09-04-2010    11:24am
আজ (শুক্রবার) ভোররাতে শিবচরে ২ বাড়িতে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ৩ ডাকাতকে একটি এলজি ও ছোড়াসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ডাকাতদলের হামলায় পুলিশের এসআই শেখ আবদুল্লাহ ও এক এলাকাবাসী আহত হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার ভোররাতে ৮/১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল চর বাচামারা গ্রামের রাজা মালের বাড়িতে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। ডাকাতরা এসময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, ৩টি মোবাইল সেটসহ অর্ধ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে। বের হয়ে যাওয়ার সময় গৃহকত্রী হামিদা বেগমের কান ছিড়ে কানের দুল নিয়ে যায় ডাকাতদল। এরপর ডাকাতদল পার্শ্ববর্তী বাবলাতলা গ্রামের খালেক মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতদলের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বড় দল কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ডাকাতদলকে ধাওয়া করে। এসময় ডাকাতদলের হামলায় পুলিশের এসআই শেখ আবদুল্লাহসহ ইসমাইল শেখ (৩৫) নামের এক এলাকাবাসী আহত হলেও ইস্রাফিল মাদবর (২৫), নজরুল মাদবর (৩০), চানমিয়া বয়াতি নামের ৩ ডাকাতকে ধরে ফেলে পুলিশ। পরে ওই এলাকা থেকে একটি অত্যাধুনিক এলজি ও একটি ছোড়া উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের দুজনের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও রাজৈরে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা, রাজৈরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
Read More ... »

শিবচরে আন্তঃজেলা ডাকাত সরদার গ্রেফতার

শিবচর থানা পুলিশ উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের শোলাপুর গ্রাম থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত সরদার সম্রাট মাদবর (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. জলিল জানান, আজ দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিরুয়াইলের শোলাপুর গ্রাম থেকে ডাকাত সরদার সম্রাট মাদবরকে গ্রেফতার করে হয়। ডাকাত সর্দারের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। তার নামে শিবচর ও ভাঙ্গা থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, ধর্ষণসহ প্রায় ৬টি মামলা রয়েছে।
Read More ... »

নিলখী থেকে ৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচরের চরমপন্থী অধ্যুষিত নিলখীতে অভিযান চালিয়ে ৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) গভীর রাতে চরমপন্থী মনির মোল্লা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড দেলোয়ার হাওলাদারের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের স্বসস্ত্র চরমপন্থী পশ্চিম নিলখীতে নাশকতার উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ খবর জানতে পেরে শিবচর থানার এসআই শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বৃহৎ দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চরমপন্থীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ওই এলাকার জাহাঙ্গীর বেপারির বাড়ির পাশের খড়ের গাদার নিচ থেকে ৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। চরমপন্থীদলের সদস্যরা নাশকতামূলক কর্মকান্ডের জন্য এ এলাকায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ককটেলগুলো শিবচর থানার সামনে বালু ভর্তি বালতিতে রাখা হয়েছে। 
এসআই শেখ আবদুল্লাহ জানান, চরমপন্থীরা কোন নাশকতার জন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছিল।
Read More ... »
Widget By Devils Workshop
 

আজকের চাঁদ

CURRENT MOON

© 2009-2010 shibcharsangbad | Design by: Md. Abul Hossain Miah

^ উপরে আসুন