এ.কে.এম. নাসিরুল হক: শিবচরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট পালিত হয়। শিবচর পৌরসভা ও উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি বহেরাতলা, ভদ্রাসন, শিবচর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, সন্ন্যাসিরচর, বন্দরখোলা ও দত্তপাড়া ইউনিয়নে গণভোজের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। মাদারিপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন মোল্লা, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সামসুল আলম খান, মাদারিপুর জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট সুজিত চ্যাটাজি বাপ্পি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।যথাযোগ্য মর্যদায় ১৫ আগস্ট পালিত
এ.কে.এম. নাসিরুল হক: শিবচরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট পালিত হয়। শিবচর পৌরসভা ও উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি বহেরাতলা, ভদ্রাসন, শিবচর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, সন্ন্যাসিরচর, বন্দরখোলা ও দত্তপাড়া ইউনিয়নে গণভোজের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। মাদারিপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন মোল্লা, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সামসুল আলম খান, মাদারিপুর জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট সুজিত চ্যাটাজি বাপ্পি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।জেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা
উপজেলার চর বাচামারা গ্রামে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে জেলে জয়নাল মাদবর (৩২)কে কতিপয় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করেছে। জানা যায়, জয়নাল শনিবার ভোরে পদ্মানদী থেকে মাছ শিকার করে তার বাড়ি চর বাচামারা গ্রামে ফিরছিল। এ সময় রাস্তার পাশে ওৎ পেতে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান মাদবার ও মিরাজসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তার গতিরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পড়ে এলাকাবাসী মুমূর্ষু জয়নালকে প্রথমে শিবচর পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেফতার
বুধবার (১১ আগস্ট) রাত ১০টায় শিবচর থানার পুলিশ গোপান সংবাদের ভিত্তিতে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার হযরত আলী (৫০)কে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট এলাকা দিয়ে হযরত আলী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলে শিবচর থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার হযরত আলীকে গ্রেফতার করে। আটককৃত ডাকাত সর্দার হযরত আলী শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার জালালপুর গ্রামের করম আলী বেপারির ছেলে। তার বিরুদ্ধে শিবচর, মুন্সিগঞ্জ, ভাঙ্গা, গোসাইরহাট থানায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মাদকাসক্ত যুবকের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবতীকে কুপিয়ে জখম
সোমবার (১০ আগস্ট)সকালে উপজেলার কুতুপুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুর গ্রামে মাদকাসক্ত যুবক শফিকুল মাদবর (২৮)এর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একই গ্রামের দবির মিয়ার মেয়ে শামিরন আক্তার (২০)কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করেছে উক্ত মাদকাসক্ত যুবক।
জানা যায,গত বেশ কিছুদিন ধরে মাদকাসক্ত যুবক শফিকুল মাদবর শামিরনকে উক্ত্যক্ত করে আসছিল। রবিবার রাতে শফিকুল শমিরনকে কুপ্রস্তাব দেয়। শামিরন শফিকুলের কুপ্রস্তাবের কথা শুনে তাকে ঝাড়ুপেটা করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল সোমবার সকালে ধারালো ছুড়ি দিয়ে শামিরনকে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে তাকে মৃত ভেবে এলাকা ত্যাগ করে চলে যায়। শামিরনকে প্রথমে শিবচর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতলে প্রেরণ করে। মুমূর্ষু শামিরন এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মাদকাসক্ত যুবক শফিকুলকে আসাসী করে শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায,গত বেশ কিছুদিন ধরে মাদকাসক্ত যুবক শফিকুল মাদবর শামিরনকে উক্ত্যক্ত করে আসছিল। রবিবার রাতে শফিকুল শমিরনকে কুপ্রস্তাব দেয়। শামিরন শফিকুলের কুপ্রস্তাবের কথা শুনে তাকে ঝাড়ুপেটা করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল সোমবার সকালে ধারালো ছুড়ি দিয়ে শামিরনকে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে তাকে মৃত ভেবে এলাকা ত্যাগ করে চলে যায়। শামিরনকে প্রথমে শিবচর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতলে প্রেরণ করে। মুমূর্ষু শামিরন এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মাদকাসক্ত যুবক শফিকুলকে আসাসী করে শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার লাখো মুরিদের ভিড়ে কাওড়াকান্দি-মাওয়া রুটে হাজার পরিবহন আটকা ॥ পুলিশের লাঠিচার্জে অর্ধশত যাত্রী আহত
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে বিশ্বমুসলিমের পবিত্র রজনী শবেবরাতের নামাজ শেষে আটরশির বিশ্বজাকের মঞ্জিল ও চন্দ্রপাড়ার লাখো মুসলিমের ভিড়ে কাওড়াকান্দি ও মাওয়ারুটের দু'পাড়ে প্রায় এক হাজার পরিবহন আটকা পড়ে আছে। ফজরের নামাজ শেষে আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার মুরিদগণ ঢাকার পথে রওয়ানা হলে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে দু'ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪ কি.মি. যানজটের সৃষ্টি করে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সামাল দিতে ব্যর্থ হলে অনিয়মতান্ত্রিক অবস্থায় পরিবহন চলাচল করায় মূহুর্তেই ঘাটের যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। পড়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে, পাঁচ্চর হাইওয়ে ও শিবচর থানা থেকে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাওড়াকান্দি ঘাটের অবস্থা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পুলিশের বেধরক লাঠিচার্জে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। ঢাকার কামরাঙ্গির চরের আবু কালাম জানান, "আটরশি থেকে ফজরের নামাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। আমিসহ আরও কয়েকজনের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।" নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার বাহাউদ্দিন মোল্লার প্রাইভেটকারের কাচ ভেঙ্গে তাকে পিটুনি দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জের ব্যাপারে জানতে চাইলে পাঁচ্চর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আসাদ জানান, লাখো মানুষের পদচারণা ও হাজার হাজার পরিবহনকে সামাল দিতে ছোট-খাটো এ ধরনের দু-একটা ঘটনা ঘটতে পারে।
গত কিছুদিন ধরে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি স্বল্পতা রয়েছে। নদীতে ১৪টি ফেরি চলাচল করলেও ৪টি আরিচায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৩টি মেরামতের জন্য ডকে উঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৭টি ফেরি চলাচল করছে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে। ফেরি স্বল্পতাই যানজটের পাল্লাকে দিন দিন ভারী করছে। অন্যদিকে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।
গত কিছুদিন ধরে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি স্বল্পতা রয়েছে। নদীতে ১৪টি ফেরি চলাচল করলেও ৪টি আরিচায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৩টি মেরামতের জন্য ডকে উঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৭টি ফেরি চলাচল করছে মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে। ফেরি স্বল্পতাই যানজটের পাল্লাকে দিন দিন ভারী করছে। অন্যদিকে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।
পদ্মানদী থেকে ৬ জলদুস্য আটক ॥ ৪টি রামদা ও ২টি ট্রলার উদ্ধার
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর রাতে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের মাগুরখণ্ড এলাকার পদ্মানদীতে জেলেদের ট্রলার থেকে মাছ লুট শেষে এলাকাবাসী ধাওয়া করে ৬ জলদস্যুকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
জানা যায়, জলদস্যু সাইদুল ইসলাম (৩৫), জুয়েল (২২), আলমগীর বেপারী (৪০), রাজ্জাক মোল্লা (২৪), জাহাঙ্গীর হোসেন (২২), রাজিব মোল্লা (৩৫) জেলেদের ১৩টি মাছের ট্রলারে লুট শেষে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের চিৎকারে এলাকাবাসী ও অন্যান্য জেলেরা ১৫/২০টি ট্রলার নিয়ে জলদস্যুদের ধাওয়া করে ৬ জনকে আটক করে। পরে আটককৃত জলদুস্যদের শিবচর থানার পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জলদস্যুদের ২টি ট্রলারতল্লাসী চালিয়ে ৪টি রামদা উদ্ধার করে। আটককৃত জলদস্যুদের বাড়ি চরজানাজাত ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি গ্রামে। এই ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, জলদস্যু সাইদুল ইসলাম (৩৫), জুয়েল (২২), আলমগীর বেপারী (৪০), রাজ্জাক মোল্লা (২৪), জাহাঙ্গীর হোসেন (২২), রাজিব মোল্লা (৩৫) জেলেদের ১৩টি মাছের ট্রলারে লুট শেষে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের চিৎকারে এলাকাবাসী ও অন্যান্য জেলেরা ১৫/২০টি ট্রলার নিয়ে জলদস্যুদের ধাওয়া করে ৬ জনকে আটক করে। পরে আটককৃত জলদুস্যদের শিবচর থানার পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জলদস্যুদের ২টি ট্রলারতল্লাসী চালিয়ে ৪টি রামদা উদ্ধার করে। আটককৃত জলদস্যুদের বাড়ি চরজানাজাত ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি গ্রামে। এই ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিবচরে পদ্মানদীতে নৌকা ডুবি, জেলে-কন্যা নিখোঁজ
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা কাজিরসুরা এলাকায় পদ্মানদীতে বাবার সাথে মাছ শিকার করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়েছে জেলে-কন্যা অজুফা আক্তার (১১) । বন্দরখোলা কাজিরসুরা চর এলাকায় জেলে তারা মিয়া ঘরামি তার শিশুকন্যা অজুফাকে নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে জাল নিয়ে পদ্মানদীতে মাছ শিকার করতে যায়। আকস্মিক বাতাসে নদীতে নৌকা ডুবে গেলে জেলে তারা মিয়া ঘরামি সাঁতার কেটে পাড়ে উঠলেও অজুফার আর ফিরে আসেনি।
পড়ল ধরা নারীলোভী
শিবচর উপজেলার খাড়াকান্দি গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ফয়জুল শেখ (৪৫) নারীলোভে সর্বসমেত ২১টি বিয়ে করলেও অধিকাংশই ঘটেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। প্রকাশ্যে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন চার স্ত্রীকে। তাদের গর্ভে আসা ১০ সন্তানের তিনজন বর্তমানে প্রবাসে আছে। বছর দেড়েক আগে এই প্রৌঢ় নিজ এলাকার মেয়ে নাসিমা আক্তারকে (১৭) বিয়ে করেন। শেষাবধি গোপন আর গোপন না থাকায় ব্যাপারটি সবার মুখে মুখে প্রশ্ন হয়েই দেখা দেয়। ফলে গত শনিবার স্থানীয় মাতব্বর মতি হাওলাদার ও মেম্বার আইয়ুব আলী হাওলাদারের নেতৃত্বে বিচার সভা বসে। এতে ফয়জুল শেখ অভাবী মেয়েদের দুর্দশা বুঝে টাকা-পয়সা ঢেলে বিয়ের নামে তাদের শয্যাসঙ্গিনী বানানোর কথা স্বীকার করেছেন।
ওই বিচারে নাসিমাকে ২১তম স্ত্রী করে নেওয়ার কাগজপত্র প্রমাণপত্র হিসেবে দেখানো হলেও কঠিন রায়ই মিলেছে তার ভাগ্যে। তাতে অপরাধীকে প্রায় হাজার জনতার উপস্থিতিতে ৪১ বার জুতাপেটা করা বাদেও নেওয়ানো হয়েছে নাকেখত। সেই সঙ্গে তার নবজাতক কন্যাটির লালন-পালনার্থে ফয়জুল শেখের কাছ থেকে আদায় করা হয় এক লাখ টাকা। আর ভবিষ্যতে সাবধান থাকার প্রশ্নে বিচারক তাকে জানিয়ে দিয়েছেন অন্য রকমের কথা। এতে বলা হয়েছে, অপরাধী ২১তম স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে কখনও দেখতে গেলে ফের ভাগ্যে মিলবে এই জুতাপেটা এবং নাকেখত।
ওই বিচারে নাসিমাকে ২১তম স্ত্রী করে নেওয়ার কাগজপত্র প্রমাণপত্র হিসেবে দেখানো হলেও কঠিন রায়ই মিলেছে তার ভাগ্যে। তাতে অপরাধীকে প্রায় হাজার জনতার উপস্থিতিতে ৪১ বার জুতাপেটা করা বাদেও নেওয়ানো হয়েছে নাকেখত। সেই সঙ্গে তার নবজাতক কন্যাটির লালন-পালনার্থে ফয়জুল শেখের কাছ থেকে আদায় করা হয় এক লাখ টাকা। আর ভবিষ্যতে সাবধান থাকার প্রশ্নে বিচারক তাকে জানিয়ে দিয়েছেন অন্য রকমের কথা। এতে বলা হয়েছে, অপরাধী ২১তম স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে কখনও দেখতে গেলে ফের ভাগ্যে মিলবে এই জুতাপেটা এবং নাকেখত।
শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শিবচর-দত্তপাড়া সড়কের বাদশাকান্দি গ্রামে নসিমনের চাকায় পিষ্ট হয়ে সাব্বির হোসেন (৪) ঘটনাস্থলে মারা গেছে। শিবচর থেকে যাত্রী বোঝাই একটি নসিমন দত্তপাড়া যাওয়ার পথে সাব্বির রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। পুলিশ গাড়িটি আটক করেছে। গাড়ি চালক পলাতক। নিহত সাব্বির দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাবলাতলা বাদশাকান্দি গ্রামের সেফায়েত মুন্সীল ছেলে। সাব্বিরের মৃত্যুর পর থেকে এলাকাবাসী দত্তপাড়া-শিবচর সড়কটি পায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
শিবচরে ডাকাতি : ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট, আহত ২
বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের মাগুরখন্ড গ্রামে মজিবর হাওলাদারের বাড়িতে এক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতেরা গৃহকর্তা মজিবর হাওলাদার (৪৫) ও ছেলে আলম (১৮) কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছ। জানা যায়, ১০/১২ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল মজিবর হাওলাদরের ঘরের কপাট ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে নগদ ২৭ হাজার টাকা, ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১টি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়।
শোক সংবাদ :: পপুলার ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেনের ইন্তেকাল
পপুলার ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী জনাব মো. আনোয়ার হোসেন গতকাল (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রেরক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি অসুস্থতাবোধ করলে প্রথমে তাকে ক্লিনিকে আনা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শিবচর পৌরএলাকার সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। শিবচর হাতিরবাগান মাঠে সকাল ১১টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পৌরসভার গুয়াতলায় নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, জনাব আনোয়ার হোসেন শিবচর পৌরসভার হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন।শিবচরে একটানা ১৮ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টিপাতে কাওড়াকান্দি ঘাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ : দুইপাড়ে আটকে আছে ৫ শতাধিক গাড়ি
টানা ১৮ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাওড়াকান্দি ও মাওয়া রুটে মঙ্গলবার সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও পরাপারে সময় লাগছে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এতে কাওড়াকান্দি ও মাওয়া রুটে দুই পাড়ে ৫ শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে আছে। গত ১৮ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করলে ফেরি চলাচলে দ্বিগুণ সময়ের চেয়েও বেশি লাগছে। এদিকে অবিরাম বৃষ্টিপাতের দরুণ কাওড়াকান্দি ২নং ফেরিঘাটের পল্টুন মাটি চাপা পড়ে গতকাল রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার ফলে সকল লঞ্চ ও স্পীডবোট বন্ধ থাকায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
শিবচরে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার
গতকাল (২৭ জুলাই) শিবচর উপজলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের গুপ্তেরকান্দা গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর শেখ মিজানুর রহমান (১৬) এর মৃতদেহ আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। জানা যায়, গত ২২ জুলাই সন্ধ্যায় আইয়ুব শেখের ছেলে মিজানকে একই গ্রামের কুদ্দুস মাদবরের ছেলে জাকির মাদবর (২৮) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মিজান বাড়ি ফিরে না আসলে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। গত সোমবার রাত ১০টায় মিজানের মৃতদেহ আড়িয়াল খাঁ নদে ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার হাত-পা রশি দিয়ে বাধা। এ ব্যাপরে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার হাত-পা রশি দিয়ে বাধা। এ ব্যাপরে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফরায়েজী আন্দোলন এবং ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি
জহিরুল ইসলাম খান: 
সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত 'ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি' নামে। গরীব চাষীদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচার ও ঐতিহাসিক 'ফরায়েজী আন্দোলন'-এর নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনও এটি দাঁড়িয়ে আছে। মাদারিপুর জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে এই নীলকুঠিটির অবস্থান।
জনশ্রুতি আছে, বহুকাল আগে থেকেই গ্রামটি বিভিন্ন পীর-আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য বলে এর নাম হয় আউলিয়াপুর। এই গ্রামেই রয়েছে খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ সুফী খাজা ইউসুফ শাহ আহসানের দরগা শরীফ। অযত্নে অবহেলায় দরগাটি আজ জরাজীর্ণ। দরগাটির অবস্থান নীলকুঠির পাশেই। ৫০ বছর আগেও এই এলাকাটি ছিল ঘনজঙ্গলে আবৃত। এখানে বাস করত বাঘসহ নানা ধরনের হিস্র প্রাণী। এখন অবশ্য এখানে আর জঙ্গল নেই।
প্রায় দু’শ বছর আগের কথা। ডানলপ সাহেব নামের একজন ইংরেজ নীলকর নীলের ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার বাসনা নিয়ে তিনি এসেছিলেন এই এলাকায়। ১২ একর জমির ওপর তিনি স্থাপন করেন নীলকুঠি। এই নীলকুঠি আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন। কুঠির জমিও বিভিন্নভাবে বেহাত হয়ে গেছে। কুঠির ধ্বংসাবশেষ এবং ইটের তৈরি ভবনের ভিত্তি পড়ে রয়েছে। আর স্মৃতি হিসাবে প্রায় অত রয়ে গেছে শুধু চুল্লিটি।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বৃহত্তর ফরিদপুরের অংশ হিসেবে মাদারিপুরে নীলচাষ শুরু হয় পলাশী যুদ্ধের কিছুকাল পর থেকেই। এলাকার তৎকালীন কৃষকদের ধান, পাট, গম, সরিষাসহ অন্যান্য ফলস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নীল চাষে বাধ্য করা হত। যে জমিতে একবার নীল চাষ করা হতো সেখানে অন্য কোন ফসল চাষ করা সম্ভব হত না। অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকদের বিপদের সময় স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সুদে ও দাদনের টাকা দিয়ে নীলচাষে প্রভাবিত করা হত। মাদারিপুর ছিল নীলচাষের জন্য খুবই উপযোগী। তখন ইংরেজই এদিকে ভিড় জমিয়েছিল নীলচাষ করতে।
এই ডানলপ সাহেবের নীলকুঠির সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘ফরায়েজী আন্দোলন’। উপমহাদেশের ব্রিটিশদের অত্যাচার যখন চরম পর্যায়ে তখন নীল কুঠিয়াল ও তাদের দোসর জমিদার-মহাজনদের অত্যাচারে এ অঞ্চলের কৃষকরাও জর্জরিত হয়ে পড়ে। এ সময় মাদারিপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তার পুত্র পীর মহসীনউদ্দিন দুদুমিয়া কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শরীয়তউল্লাহ ও দুদুমিয়া এলাকার কৃষকদের নিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল এক লাঠিয়াল বাহিনী। এই প্রতিবাদ এক সময় গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
শরীয়তউল্লাহ মারা যাওয়ার পর তার ছেলে দুদুমিয়ার নেতৃত্বে ১৭৩৮ সালে বৃটিশদের সাথে নীলকুঠি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পরাজিত নীল কুঠিয়াল ডানলপ তার দলবল নিয়ে নীলকুঠি ছেড়ে পালিয়ে যায়। আউলিয়াপুরের যে স্থানে এই য্দ্ধু হয় সেই স্থান এখনও ‘রণখোলা’ নামে পরিচিত।
বিলুপ্তপ্রায় ডানলপ নীলকুঠির পূর্ব পাশে রণখোলা, পশ্চিমে আউলিয়াপুর বাজার, উত্তরে কালীতলা ও দেক্ষিণ আউলিয়াপুর দরগা শরীফ। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট এ কুঠির মাঝামাঝি অংশে রয়েছে চুল্লি, পাশেই রয়েছে প্রায় ৪০ ফুট উঁচু চিমনি।
দিন দিন অযত্ন আর অবহেলায় এই ঐতিহাসিক নির্দশনটি বিলুপ্ত হতে বসেছে। এলাকাবাসী চায় তাদের পূর্ব-পূরুষদের উপর অত্যাচার ও ফরায়েজী আন্দোলনের ইতিহাসের শেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে এই নীলকুঠি সরকার সংরণ করুক। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে এলাকাবাসীকে নীলকুঠি সংরক্ষণ করার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখেনি বলে জানালেন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সদস্য মাদারিপুরের অন্যতম ইতিহাসবিদ ডা. আব্দুল বারির সাথে কথা হলে তিনি এই নীলকুঠিকে সংরক্ষণের দাবী জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই নীলকুঠি হারিয়ে গেলে মাদারিপুর অঞ্চলে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও ফরায়েজী আন্দোলনের কোন স্মৃতিচিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। নীলকুঠি সংরক্ষণে সরকার এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা মাদারিপুরবাসীর।
বর্তমানে নীলকুঠির অনেক জমি বেহাত হয়ে গেছে। এই জমি উদ্ধার না করা পর্যন্ত নীলকুঠি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। নীলকুঠি রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরী। শুধু দর্শনার্থীদের জন্যই নয় এই নীলকুঠির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম।

সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত 'ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি' নামে। গরীব চাষীদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচার ও ঐতিহাসিক 'ফরায়েজী আন্দোলন'-এর নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনও এটি দাঁড়িয়ে আছে। মাদারিপুর জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে এই নীলকুঠিটির অবস্থান।
জনশ্রুতি আছে, বহুকাল আগে থেকেই গ্রামটি বিভিন্ন পীর-আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য বলে এর নাম হয় আউলিয়াপুর। এই গ্রামেই রয়েছে খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ সুফী খাজা ইউসুফ শাহ আহসানের দরগা শরীফ। অযত্নে অবহেলায় দরগাটি আজ জরাজীর্ণ। দরগাটির অবস্থান নীলকুঠির পাশেই। ৫০ বছর আগেও এই এলাকাটি ছিল ঘনজঙ্গলে আবৃত। এখানে বাস করত বাঘসহ নানা ধরনের হিস্র প্রাণী। এখন অবশ্য এখানে আর জঙ্গল নেই।
প্রায় দু’শ বছর আগের কথা। ডানলপ সাহেব নামের একজন ইংরেজ নীলকর নীলের ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার বাসনা নিয়ে তিনি এসেছিলেন এই এলাকায়। ১২ একর জমির ওপর তিনি স্থাপন করেন নীলকুঠি। এই নীলকুঠি আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন। কুঠির জমিও বিভিন্নভাবে বেহাত হয়ে গেছে। কুঠির ধ্বংসাবশেষ এবং ইটের তৈরি ভবনের ভিত্তি পড়ে রয়েছে। আর স্মৃতি হিসাবে প্রায় অত রয়ে গেছে শুধু চুল্লিটি।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বৃহত্তর ফরিদপুরের অংশ হিসেবে মাদারিপুরে নীলচাষ শুরু হয় পলাশী যুদ্ধের কিছুকাল পর থেকেই। এলাকার তৎকালীন কৃষকদের ধান, পাট, গম, সরিষাসহ অন্যান্য ফলস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নীল চাষে বাধ্য করা হত। যে জমিতে একবার নীল চাষ করা হতো সেখানে অন্য কোন ফসল চাষ করা সম্ভব হত না। অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকদের বিপদের সময় স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সুদে ও দাদনের টাকা দিয়ে নীলচাষে প্রভাবিত করা হত। মাদারিপুর ছিল নীলচাষের জন্য খুবই উপযোগী। তখন ইংরেজই এদিকে ভিড় জমিয়েছিল নীলচাষ করতে।
এই ডানলপ সাহেবের নীলকুঠির সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘ফরায়েজী আন্দোলন’। উপমহাদেশের ব্রিটিশদের অত্যাচার যখন চরম পর্যায়ে তখন নীল কুঠিয়াল ও তাদের দোসর জমিদার-মহাজনদের অত্যাচারে এ অঞ্চলের কৃষকরাও জর্জরিত হয়ে পড়ে। এ সময় মাদারিপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তার পুত্র পীর মহসীনউদ্দিন দুদুমিয়া কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শরীয়তউল্লাহ ও দুদুমিয়া এলাকার কৃষকদের নিয়ে গড়ে তোলেন বিশাল এক লাঠিয়াল বাহিনী। এই প্রতিবাদ এক সময় গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
শরীয়তউল্লাহ মারা যাওয়ার পর তার ছেলে দুদুমিয়ার নেতৃত্বে ১৭৩৮ সালে বৃটিশদের সাথে নীলকুঠি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পরাজিত নীল কুঠিয়াল ডানলপ তার দলবল নিয়ে নীলকুঠি ছেড়ে পালিয়ে যায়। আউলিয়াপুরের যে স্থানে এই য্দ্ধু হয় সেই স্থান এখনও ‘রণখোলা’ নামে পরিচিত।
বিলুপ্তপ্রায় ডানলপ নীলকুঠির পূর্ব পাশে রণখোলা, পশ্চিমে আউলিয়াপুর বাজার, উত্তরে কালীতলা ও দেক্ষিণ আউলিয়াপুর দরগা শরীফ। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট এ কুঠির মাঝামাঝি অংশে রয়েছে চুল্লি, পাশেই রয়েছে প্রায় ৪০ ফুট উঁচু চিমনি।
দিন দিন অযত্ন আর অবহেলায় এই ঐতিহাসিক নির্দশনটি বিলুপ্ত হতে বসেছে। এলাকাবাসী চায় তাদের পূর্ব-পূরুষদের উপর অত্যাচার ও ফরায়েজী আন্দোলনের ইতিহাসের শেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে এই নীলকুঠি সরকার সংরণ করুক। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে এলাকাবাসীকে নীলকুঠি সংরক্ষণ করার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখেনি বলে জানালেন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সদস্য মাদারিপুরের অন্যতম ইতিহাসবিদ ডা. আব্দুল বারির সাথে কথা হলে তিনি এই নীলকুঠিকে সংরক্ষণের দাবী জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই নীলকুঠি হারিয়ে গেলে মাদারিপুর অঞ্চলে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও ফরায়েজী আন্দোলনের কোন স্মৃতিচিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। নীলকুঠি সংরক্ষণে সরকার এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা মাদারিপুরবাসীর।
বর্তমানে নীলকুঠির অনেক জমি বেহাত হয়ে গেছে। এই জমি উদ্ধার না করা পর্যন্ত নীলকুঠি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। নীলকুঠি রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরী। শুধু দর্শনার্থীদের জন্যই নয় এই নীলকুঠির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম।
Subscribe to:
Posts (Atom)
